APRIL 7, 2018
কুরআনে সমকামী কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিতে বহু আয়াত রয়েছে, যা বহু শতাব্দী ব্যাপী উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যাগত ও আইনি ভাষ্যের অবতারণা করেছে।বিষয়টি কুরআনের সাতটি পৃথক আয়াতে সডোম ও গোমরাহর কাহিনীর মাধ্যমে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে শহরের অধিবাসীরা নবী লূতের কাছে ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত বার্তাবাবাহকদের নিকট যৌন প্রবেশাধিকার দাবি করেছিল।কুরআনের একটি অংশে বলা হয়েছে যে পুরুষরা “তার (লুতের) অতিথিদেরকে পাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল” (কোরআন ৫৪::৩৭),[৩২] যেখানে ইউসুফকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টার বর্ণনায় ব্যবহৃত কুরআনের শব্দগুচ্ছের অনুরূপ অভিব্যক্তিকে ব্যবহার করা হয়ছে, এবং একাধিক অনুচ্ছেদে তাদের বিরুদ্ধে মহিলা (বা তাদের স্ত্রীদের) পরিবর্তে পুরুষদের কাছে “অভিলাষ নিয়ে আসার” অভিযোগ করা হয়েছে। কুরআন এটিকে বিশ্বের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘৃণ্য কর্ম বা ফাহিশা বলে অভিহিত করেছে এবং আমি লূতকে প্রেরণ করেছি। যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বের কেউ করেনি ? তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ। তাঁর সম্প্রদায় এ ছাড়া কোন উত্তর দিল না যে, বের করে দাও এদেরকে শহর থেকে। এরা খুব সাধু থাকতে চায়। অতঃপর আমি তাকে ও তাঁর পরিবার পরিজনকে বাঁচিয়ে দিলাম, কিন্তু তার স্ত্রী। সে তাদের মধ্যেই রয়ে গেল, যারা রয়ে গিয়েছিল। আমি তাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। অতএব, দেখ গোনাহগারদের পরিণতি কেমন হয়েছে।
পরবর্তীতে, এই আয়াতগুলির উপর ভিত্তি করে তাফসির সাহিত্য রচনা করা হয়েছে এবং লেখকরা সেখানে কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে তাদের নিজস্ব মতামত দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন; এবং তাফসিরলেখকদের মধ্যে সাধারণ ঐক্যমত্য ছিল যে, কুরআনীয় অনুচ্ছেদে যে “ঘৃণিত কর্ম” দ্বারা যা বোঝানো হয়েছে তা ছিল পুরুষদের মধ্যে লিওয়াত বা পায়ূপথে সহবাস করার চেষ্টা।
পরবর্তীতে লূতের সম্প্রদায়েরর পাপ কথাটি একটি প্রবাদবাক্য হয়ে ওঠে এবং পুরুষদের মধ্যে পায়ুসঙ্গম বোঝানো আরবি শব্দগুলি যেমন লিওয়াত (আরবি: لواط, প্রতিবর্ণীকৃত: লিওয়াত) এবং এমন ব্যক্তি যারা এই জাতীয় আচরণ করে তাদের নাম (আরবি: لوطي, প্রতিবর্ণীকৃত: লুতি) এই ঘটনা থেকে উদ্ভূত হয়, যদিও লুত নিজে কখনোই উক্ত যৌনকর্মের দাবিদারদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
লেখক
রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী জয়
