OCTOBER 4, 2018
কোন কিছুর নির্দেশেই বিশ্বজগৎ চলছে না, সবই চলছে আসলে নিজ নিজ প্রয়োজন মাফিক, বস্তুজগতের প্রাকৃতিক কিছু নিয়মের অনুসারে। একটা গাছের পাতা দূরের কথা, একজন চরমতম ঈশ্বর-বিশ্বাসী হিসেবে দাবি করা ব্যক্তিও আসলে ঈশ্বরের নির্দেশে চলছে না! কত ধার্মিক ব্যক্তিই ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ধর্মের কত বিধি-নিষেধ অমান্য করে, তার ইয়ত্বা নাই। ঈশ্বর বলেছেন, মিথ্যা বলো না, তবু লোকে মিথ্যা বলে; ঈশ্বর বলেছেন, সুদ-ঘুষ খেয়ো না, মানুষ সুদ-ঘুষ খায়, অপরকে ঠকিয়ো না, তবু ঠকায়। নামাজ-রোজা, পূজা – আর্চনা – এসবেও কতজন কত ফাঁকিঝুকি মারে! খোদ সবচেয়ে বড় ফেরেশতা ঈশ্বরের নির্দেশ অমান্য করে শয়তান হয়ে গেলো! ধার্মিক ব্যক্তিরই এই অবস্থা, আর আমার মত নাস্তিক হলে তো কথাই নেই! ঈশ্বরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই – তার নির্দেশ অমান্য করি! ঈশ্বরের নির্দেশ ব্যাপারটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে একটা কৌতুককর ব্যাপার! আর, যদি বলা হয় – ঈশ্বরের নির্দেশ অমান্য করাটাও আসলে ঈশ্বরের ইচ্ছায় বা নির্দেশেই ঘটছে; তার চাইতে হাস্যকর আর কি হতে পারে? মানে, আমি এই যে ঈশ্বরকে ভুল ও ভুয়া প্রমাণ করে এই লেখাটি লিখছি, কিংবা আরেকজন ঈশ্বরকে গালাগালিই করছে, সেসবও যদি ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই হয়ে থাকে, তাহলে ঈশ্বরের এমন নির্দেশের মূল্যই থাকলো কি, আর এসব নিয়ে কথা বলারই কি আছে? যা কিছু ঘটে বা হয়, সব ঘটার ও হওয়ার পরেই যদি বলে দেয়া, এমন এমনটাও ঈশ্বরের ইচ্ছায় বা নির্দেশেই ঘটেছে, তাহল ঈশ্বরের এমন নির্দেশ ও ইচ্ছার চাইতে অগুরুত্বপূর্ণ ও ফালতু বিষয় জগতে আর কি থাকতে পারে? অতএব, প্রমানিত হলো যে, ঈশ্বর বলে বাস্তবে কিছু নেই।
ঈশ্বর সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক: ঈশ্বরের ধারণাটিই হচ্ছে জাঁদরেল, প্রতাপশালী একনায়কতন্ত্রের ধারণা, এর সাথে ন্যায়বিচারের তো কোন সম্পর্কই থাকা সম্ভব না! ঈশ্বরকে তখনই ন্যায়বিচারক বলা সম্ভব হতো, যদি তিনি তার অপার-অসীম ও একচ্ছত্র ক্ষমতা মানুষ, জীবকূল এবং অন্যসব মহাজাগতিক সত্ত্বা, যেমন ছোটখাট দেব-দেবী, এঞ্জেল বা ফেরেশতা, জ্বিন, অসুর, দানব, – সবার মাঝে সমান ভাগ করে দিতেন, এবং কোন কিছুকেই নিয়ন্ত্রণ না করে- সকলকেই অপার স্বাধীনতা দিতেন। কোনকালেই কোন একনায়ক, ক্ষমতা কুক্ষীগত করা কাউকে ন্যায়বিচারক বলা যায় না। আর, তিনি তার সৃষ্ট সকলের মাঝেও ন্যায় বিচার করেন কি না (যেমনঃ মহা পরাক্রমশালী – অত্যাচারী রাজাও – তার সমস্ত প্রজাকে সমান ভাবে শোষণ করেন কি না, নাকি প্রজায় প্রজায় ভেদ করেন) – সেই অর্থে ন্যায়বিচারকে ধরলেও বলা যাবে, তিনি মোটেও ন্যায়বিচারক নন। ঈশ্বরের ফুট-ফরমাশ খাঁটার জন্যে যেসব চাকর-বাকরকে তিনি নিয়োগ দিয়েছেন, সেই সব এঞ্জেল বা ফেরেশতাদের জীবন কত করুণ, কত পরাধীন, কত নিরানন্দ! সেই চাকর-বাকরদের মাঝেও ঈশ্বর কোন রকম সমস্তা, ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। যেমনঃ এক চাকরকে তিনি নিয়োজিত করেছেন তার কথা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্যে, সেটাও প্রায় দেড় হাজার বছর হলো বন্ধ করে দিয়েছেন, তার মানে তারপর থেকে সেই চাকরের আর কোন কাজ নেই। আরেক চাকরকে একটা বাঁশি দিয়ে রেখেছেন, কোন এক ভবিষ্যতে ঈশ্বর সব কিছু ধ্বংস করবেন, তখন এই বাঁশিতে ফুঁ দিতে হবে। তার আর কোন কাজ নাই! অন্যদিকে আরেক চাকরকে তিনি জীবের মৃত্যুর জন্যে নিয়োগ দিয়েছেন, বেচারার তো দম ফেলারই ফুসরৎ নেই। নরকে নিয়োজিত করেছেন যেসব চাকরকে, নরকের সেই প্রচণ্ড যন্ত্রণাময় পরিবেশে তাকে অনন্তকাল কাটাতে হচ্ছে কোন রকম পাপ না করেই! এই যে চাকর বাকরের মধ্যেও যে এত এত ভেদাভেদ করে রেখেছে্ন যেই ঈশ্বর, তাকে কোনভাবেই কি ন্যায়বিচারক বলা সম্ভব? এই প্রকৃতি জগৎটা যদি তিনি সৃষ্টি করে থাকেন, তবে তিনি এটাকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন, সেখানে ন্যায় বিচারের কোন নামগন্ধই নেই। সারভাইবল অফ দ্য ফিটেস্ট এখানে একমাত্র মন্ত্র। সবল ও যোগ্যই এখানে দুর্বল ও অযোগ্যের উপরে ছড়ি ঘুরায়।
প্রাচীণ মিশরীয় পুরাণ অনুযায়ী, আদিতে কোনোকিছুর অস্তিত্ব ছিল না; কেবল ছিল নু (আদিম পানি বা বিশৃঙ্খলা, যা সৃষ্টির সম্ভাব্যতাকে ধারণ করে)। ওই নু থেকে দেবতাদের সৃষ্টিকর্তা আটুম নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেন। তার মাধ্যমে রূপায়িত হয় দিনের সম্পূর্ণতা, সূর্যের সাথে এই সম্পৃক্ততার দরুন তাকে আটুম-রা বলেও উদ্ধৃত করা হয়েছে। আটুমের নিক্ষেপ করা থুতু থেকে জন্ম নিলো পুত্র বাতাসের দেবতা ‘শু’ এবং বমি থেকে আর্দ্রতার দেবী ‘তেফনুত’। পিতার ব্যস্ততার সুযোগে তারা সেই আদিম জলে নেমে হারিয়ে যায়। সন্তানদের খোঁজে আটুম নিজের চোখ তুলে ছেড়ে দিলেন নিঃসীম শূন্যতায়, আর সেখানে স্থাপন করলেন আরো বড় নতুন একটা চোখ। প্রথম চোখটা ঠিক ধরে আনলো পুত্র-কন্যাকে, আটুম এবার প্রথম চোখটাকে স্থাপন করলেন নিজের কপালে মাঝে, যা দিয়ে তিনি দেখতে পেলেন সৃষ্টির সমস্ত কিছুর অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ। অন্যদিকে সন্তানদের ফিরে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন আটুম। তার প্রতি ফোঁটা চোখের জল থেকে জন্ম নিল মানুষ। পাহাড় আর পাথর ছাড়া তখনো তেমন কিছুই নেই। আটুম-রা, শু আর তেফনুত মিলে মানুষের জন্য যথোপযুক্ত বাসভূমি তৈরি করেন। শু এবং তেফনুতের মিলনে জন্ম নিলো পুত্র ‘গেব’ বা ভূ-পৃষ্ঠ এবং কন্যা ‘ন্যুত’ বা আকাশ। মিশরীয় বিখ্যাত দেবতা হোরাস হচ্ছে এই আটুম-রা এর নাতির নাতি। হোরাসের বাবা ওসিরিস ও মা আইসিস, এবং চাচা সেট – এই তিনজনের প্র-পিতামহ হচ্ছে আটুম-রা। অন্য একটি মিশরীয় পুরাণ অনুযায়ী, আদিতে কিছুই ছিল না; কেবল ছিল খনুম (আদি দেবতা বা ঈশ্বর)। খনুম সৃষ্টি করার জন্য মনস্থির করলেন; ফলে জন্ম নিলো দেবতারা। তাকে ভাবা হতো স্বর্গীয় কুমোর; যিনি কাদা দিয়ে শিশু তৈরি করে মায়ের গর্ভে স্থাপন করে দেন। বস্তুত খনুম সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন কাদা থেকে। দেবতা, মানুষ, পশু-পাখি, মাছ এবং গাছকেও। তবে মানুষ সৃষ্টির ব্যাপারে ছিলেন সবচেয়ে সতর্ক। শরীরের আকৃতি ও রক্তপ্রবাহের জন্য নালী সৃষ্টির পর ঢেকে দিলেন চামড়া দিয়ে। বিভিন্ন রকম মানুষ সৃষ্টির জন্য তার কাছে রয়েছে কুমোরের চাকা। খনুম মাটি থেকে সৃষ্টি করার পরে সেখানে জীবন ফুঁকে দিতেন। প্রাচীণকালে মিশরীয়দের এসব ধর্ম বিশ্বাস এখন আর কেউ ধারণ করে না, ফলে যে কারোর কাছে এসব কেবলই কাল্পনিক কাহিনী, মিথ বাদে কিছুই নয়। যদিও, এখনকার প্রচলিত বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসে পানি থেকে বা মাটি থেকে মানুষ (ও জীবজন্তু) তৈরি, ঈশ্বর কর্তৃক মানুষের শরীর তৈরি করে সেখানে আত্মা ফুঁকে দেয়া – এমন কাহিনীগুলোও ঠিকই পাওয়া যাবে। সেগুলোতে বিশ্বাস আনা মানুষই নিশ্চিন্তে বলে দিবে- অতএব, প্রমানিত হলো যে, আটুম-রা ঈশ্বর বা খনুম ঈশ্বর বলে বাস্তবে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই।
ঋগ্বেদের পুরুষসূক্ত অনুযায়ী, ঈশ্বর তথা পরব্রহ্ম বা পুরুষের বিরাট নামক বিশ্বরূপ হল সৃষ্টির উৎস। পুরুষ নিজেকে আহুতি দিয়ে পক্ষী, বন্য ও গবাদি পশু, চার বেদ, মন্ত্রের ছন্দ সৃষ্টি করেন। তার মুখ, বাহু, জঙ্ঘা ও পা থেকে চার বর্ণের, মন থেকে চন্দ্র ও চোখ থেকে সূর্যের জন্ম হয়। তার মুখ ও নিঃশ্বাস থেকে ইন্দ্র ও অগ্নির জন্ম হয়। তার নাভি থেকে আকাশ, মাথা থেকে স্বর্গ, পা থেকে পৃথিবী ও কান থেকে অন্তরীক্ষের জন্ম হয়। এই সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে মানুষ, জাগতিক ও মহাজাগতিক সকল সত্ত্বার মধ্যে একত্ব স্থাপিত হয়। সহজেই বুঝা যাচ্ছে, পুরুষ বা পরব্রহ্ম ঈশ্বরের মুখ, বাহু, জঙ্ঘা, পা, মন, চোখ, মুখ, নিঃশ্বাস, নাভী, মাথা, কান প্রভৃতি থেকে বন্য ও গবাদি পশু, চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, পৃথিবী, অন্তঃরীক্ষ, অগ্নি, মানুষ, জাগতিক সকল সত্ত্বার এরকম সৃষ্টির কাহিনীগুলো সম্পূর্ণভাবেই কাল্পনিক রূপকথা বা মিথ। বেদ আর মন্ত্রের ছন্দ বস্তুত মানুষেরই তৈরি, চার বর্ণ বা বর্ণভেদ প্রথা মানব সমাজে ক্ষমতাধর মানুষের তথা শাসক গোষ্ঠীর হাতে পুরোহিততন্ত্রের সহযোগে উদ্ভূত। আর, ইন্দ্র দেবতা, মহাজাগতিক সত্ত্বা বলেও কোন কিছু নেই। পরব্রহ্ম বা পুরুষ ঈশ্বর কর্তৃক এমনতর সৃষ্টিতত্ত্বের সাথে বাস্তবতার কোন রকম সংযোগই নেই। অতএব, প্রমানিত হলো যে, পরমব্রহ্ম, পরমেশ্বর বা পুরুষ ঈশ্বর বলে বাস্তবে কোন কিছুই নেই।
জরাথুষ্ট্রীয় ধর্ম বা জরথুস্ত্রবাদ অনুযায়ী, ভালো বা শুভশক্তির ঈশ্বর হচ্ছেন আহুরা মাজদা (“সর্বজ্ঞানস্বামী”) বা ওরমুজদ, আর মন্দের ঈশ্বর হচ্ছেন আংরা মাইনু বা আহরিমান। সৃষ্টির একদম আদিতে কিছুই ছিল না, কেবল ছিলো আহুরা মাজদা যিনি ছিলেন অনন্ত আলোয় আর ছিলো আহরিমান, যিনি ছিলেন নিঃসীম অন্ধকারে, এর মাঝখানে ছিল কেবলই শূণ্যতা। একদিন আহুর মাজদা সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিলেন, প্রথমে ধাতুর তৈরি উজ্জ্বল আকাশ তৈরি করলেন, তারপরে তৈরি করলেন বিশুদ্ধ পানি, তারপরে তৈরি করলেন সমতল ও গোল পৃথিবী, চতুর্থ ধাপে তৈরি করলেন বৃক্ষরাজি, পঞ্চম ধাপে প্রাণী এবং ষষ্ঠধাপে তৈরি করলেন প্রথম মানুষ। আহরিয়ান এসব সৃষ্টি দেখে তাদেরকে ধ্বংস করতে চাইলেন, ফলে আহুরা মাজদা তার সৃষ্টিকে রক্ষার জন্যে পাঁচটি পবিত্র স্পিরিট তৈরি করলেন, আর নিজে দায়িত্ব নিলেন মানুষকে রক্ষার। ফলে, আহরিমানের চেস্টার পরেও কোন কিছু ধ্বংস হলো না, তবে পৃথিবীতে পাহাড়-পর্বত হলো, গাছে কাঁটা হলো, প্রাণিতে – মানুষে রোগ – শোক – দুঃখ – দুর্দশা এলো। বুঝাই যাচ্ছে, এসব কাল্পনিক সৃষ্টিকাহিনীগুলোর মাঝে সত্যতার লেশমাত্রও নেই। এই মিথগুলো থেকেই কিছুটা বিবর্তিত হয়ে পরবর্তীতে অন্যান্য ধর্মের ঈশ্বর ও শয়তান বা ডেভিলের ধারণা, পবিত্র আত্মা তথা ফেরেশতা বা এঞ্জেল এর ধারণা, ছয় ধাপে সৃষ্টির ধারণাগুলো এসেছে। জরাথুষ্ট্রীয় বিশ্বাসগুলোকে কিছুটা উল্টেপাল্টে নিয়ে গ্রহণ করা ধর্মের অনুসারীরাই নিশ্চিন্তে বলে দিবে- অতএব, প্রমানিত হলো যে, ভালো ঈশ্বর (আহুরা মাজদা) কিংবা খারাপ ঈশ্বর বা শয়তান (আহরিমান) বলে বাস্তবে কোন কিছুই নেই।
বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, ঈশ্বর আছেন। অর্থাৎ, বিভিন্ন ধর্মের ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে হাজির করা হয় সেই সেই ধর্মের ধর্মগ্রন্থকে! সেই ধর্মগ্রন্থগুলোতে ঈশ্বরের অস্তিত্বের কথা জানানো হয়েছে, কখনো কখনো ঈশ্বরের অস্তিত্বের স্বপক্ষে যুক্তিও করা হয়েছে, এবং ধর্মগ্রন্থগুলো যে ঈশ্বরের প্রেরিত বা ঈশ্বর কর্তৃক লিখিত, সেই দাবিও আছে ধর্মগ্রন্থগুলোতে। অর্থাৎ, ঈশ্বর আছে তার প্রমাণ এই ধর্মগ্রন্থ, এই ধর্মগ্রন্থ যে সত্য বলছে তার যুক্তি হচ্ছে ধর্মগ্রন্থ মানুষের লেখা নয়, সেগুলো ঐশ্বরিক। এগুলো যে ঐশ্বরিক, বা মানুষের লেখা নয়- সেটার প্রমাণও আছে ধর্মগ্রন্থে। এগুলোকে বলা হয় সার্কুলার যুক্তি, ফলে এমন যুক্তির মাঝে কোন সারবেত্তা নেই। তারচেয়েও বড় কথা, যেকোন গ্রন্থ কেবল ও কেবলমাত্র মানুষই লেখতে পারে, মানুষ ভিন্ন কোন গ্রন্থ কোনকালে অন্য কেউ লিখেছে, তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার উপরে, প্রতিটা ধর্মগ্রন্থ এত অসংখ্য অযৌক্তিক, ভুলে ভরা ও পরষ্পরবিরোধী কথাবার্তায় ভরপুর যে, সেখান থেকেও বুঝা যায়, এগুলো কোন নির্দিষ্ট কালের, নির্দিষ্ট জায়গার বা সমাজের মানুষেরই লেখা। যেমনঃ কোরআনে সৃষ্টিকাহিনী, বিভিন্ন রকম অলৌকিক ঘটনা, পিতা ছাড়াই ঈসা নবীর জন্ম, যাদুবিদ্যায় বিশ্বাস, জ্বিন ও ফেরেশতার গল্পকথা, ভূমিকম্পের ভুল ব্যাখ্যা, পর্বতকে পেরেক, আকাশকে খুটিবিহীন ছাদ বলা, দুনিয়া-চাঁদ-সূর্য-নক্ষত্রের নানা ভুলভাল আলাপ, উত্তরাধিকার সম্পত্তির বন্টনের হিসাবে গাণিতিক ভুল, এক মানুষের সৃষ্টি কি থেকে- সেই ব্যাপারে একেক জায়গায় একেক কথা বলা, এমন অসংখ্য ভুলভ্রান্তিতে ভরপুর কোরআন, কিংবা আরো অনেক অনেক বেশি (যত প্রাচীণ গ্রন্থ, স্বাভাবিকভাবেই ভুলের পরিমাণ তত বেশিই হবে) ভুলভালে ভরা নিউ টেস্টামেন্ট, ওল্ড টেস্টামেন্ট, কিংবা বেদ-পুরাণ, মহাভারত, রামায়ন – এসব গ্রন্থগুলোর সবকটিই প্রকৃতপক্ষে মানুষের লেখা (কেননা, মানুষ ভুল করে, বা এক যুগে মানুষ যা সঠিক হিসেবে জানে, পরবর্তীতে জ্ঞানের উৎকর্ষতায় আগের জ্ঞানকে ভুল হিসেবে বুঝতে পারে)। অতএব, প্রমানিত হলো যে, ঈশ্বর বলে বাস্তবে কিছু নেই।
লেখক
রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী জয়
