ইসলাম ধর্ম নয়

JULY 3, 2019

ইসলাম যে শুধু ধর্ম নয় বরং সামাজিক-সাংস্কৃতিক উপাদানের বাইরেও আর্থ-রাজনৈতিক এবং দার্শনিক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এটা পাঁড় নাস্তিক বা আস্তিক উভয়েই স্বীকার করবেন। অর্থনৈতিক উৎপাদন ব্যবস্থা যে এর উপরে প্রভাব ফেলে তাতো আমরা দেখছিই (সুদমুক্ত!! ইসলামী ব্যাংক, ভাসানীর ইসলামী সমাজতন্ত্র, সৌদীয়া ইসলামী পুঁজিবাদ ইত্যাদি ইত্যাদি)। প্রশ্ন হলো এর বিকল্প নিয়ে মুক্তমনা সম্প্রদায় কি ভাবছেন? দ্ব্বান্দ্বিক বস্তুবাদের স্বাভাবিক পরিণতি সমাজতন্ত্রকে কাটছাট করে সিজারীয়ান প্রি ম্যাচিউর ডেলিভারী দিলে যে কি অবস্থা হয় তাতো আমরা সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের পতন থেকেই দেখছি, আবার সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদের পুটুমারা আম্রিকা তো বটেই এমনকি আমরাও খাচ্ছি(শেয়ার বাজার যার জ্বলন্ত উদাহরণ!)। অর্থনৈতিক উৎপাদন ব্যবস্থায় তাহলে মুক্তমনা সম্প্রদায় কি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনা আনছেন এখানে(ইসলাম ব্যাশিং একটু পাশে রেখে!)? নাকি দেশের ৯৯.৯৯৯৯% আস্তিকরা অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ইয়ে মারা খেয়ে গেলেও তাদের কিছু যায় আসেনা?

মনে রাখবেন শৌখিন ড্রইংরুম জাত কজিটো এর্গো সাম বা অকামস রেজর দিয়ে সাধারণ মানুষের পেট ভরবে না। আলবেনিয়ার মতন নাস্তিক রাষ্ট্রতন্ত্র দিয়েও কাজ হবেনা। উতপাদন ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে চাই বিজ্ঞানের প্রসার এবং প্রযুক্তির প্রসার। তখন এমনকি ইসলামের বজ্র আঁটুনিও ফসকা গেড়ো হয়ে যাবে(যেমন মালয়েশিয়া)।

মুক্তমনায় কি তবে কোনো অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নেই? অর্থনীতি হচ্ছে রাষ্ট্রের মস্তিষ্ক। যে দেশের সবচেয়ে অচ্ছুৎ, অনাগ্রহীতাপূর্ণ সাব্জেক্ট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়া সে দেশ থেকে আর কি আশা করা যায়? অথচ একটু খোঁজ নিলেই জানবেন যে বাংলাদেশে ৬০ এর দশকে সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস সাব্জেক্ট ছিলো ফিজিক্স আর অর্থনীতি। আর এখন আমাদের উচ্চশিক্ষা হচ্ছে কেরানী(থুক্কু কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ), উচ্চকামলা(থুক্কু ইঞ্জিনিয়ার) আর হাঁটুবাহিনী। এমনকি ডাক্তারীতেও দীর্ঘসূত্রিতার কারনে সেখানে পড়তে মেধাবিরা এখন অনুৎসাহী। পড়ুয়ারাও ব্লগে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে অনুৎসাহিত করছে সবাইকে। টেকনোলজি, মাছিমারা কেরাণীগিরি আর প্রতিরক্ষার মতন গৌণ বিষয়ে জীবিকার ঠিকা নিয়ে রাখা যুবসমাজ(যার মাঝে নব্য মুক্তমনারাও পড়েন অধিকাঙ্গশেই)দের কাছ থেকে আর কতটুকু গহীনত আশা করা যায়? এরা যতই মুক্তমনা হোন না কেন। অর্থনৈতিক নীতিমালার যে পাঠ তাদের বাধ্য হয়েই ফলো করতে হবে সেটা ঐ সব অর্ধশিক্ষিত মন্ত্রী, আমলারাই বানাবেন। তাহলে এইসব উঁচুমার্গীয় ড্রইংরুমীয় আলাপের হেতু কি? মানসিক প্রশান্তি কেবল?

লেখক

রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *