স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্ন

SEPTEMBER 9, 2020

মানব সমাজ সবসময়ই বৈচিত্র্যে ভরপুর। ভাষা, সংস্কৃতি, বিশ্বাসের মতোই মানুষের জেন্ডার পরিচয়ও বৈচিত্র্যময়। সবাই একইভাবে নিজেদের পরিচয় অনুভব করে না। কেউ নিজেকে পুরুষ হিসেবে দেখেন, কেউ নারী হিসেবে, আবার কেউ এমন পরিচয় বহন করেন যা প্রচলিত এই দুই ধারণার বাইরেও বিস্তৃত। এই বৈচিত্র্যকেই বলা হয় জেন্ডার ডাইভারসিটি।

জেন্ডার ডাইভারসিটি স্বীকার করা মানে সমাজের একটি বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক সমাজে এখনও জেন্ডার পরিচয়ের কারণে মানুষ বৈষম্য, সামাজিক বর্জন, এমনকি সহিংসতার শিকার হয়। অনেকেই নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে ভয় পায়, কারণ তারা জানে সমাজের একাংশ তাদের গ্রহণ করবে না।

কিন্তু মানবাধিকারের মৌলিক নীতিই হলো—প্রত্যেক মানুষ সমান মর্যাদা ও স্বাধীনতার অধিকারী। কারও জেন্ডার পরিচয় বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের কারণে তাকে ঘৃণা করা, বঞ্চিত করা বা সহিংসতার শিকার করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।

জেন্ডার বৈচিত্র্যকে সম্মান করা মানে শুধু সহনশীল হওয়া নয়, বরং সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবা সব জায়গায় এমন পরিবেশ তৈরি করা দরকার যেখানে মানুষ তার পরিচয় নিয়ে নিরাপদ বোধ করতে পারে।

একটি আধুনিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে আমাদের দরকার সহমর্মিতা, যুক্তি এবং মানবিকতা। ভিন্ন পরিচয়ের মানুষদের শত্রু হিসেবে না দেখে সমাজের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সমাজ তখনই এগিয়ে যায় যখন সেখানে মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করা হয়।
শেষ পর্যন্ত বিষয়টি খুবই মৌলিক মানুষ কি নিজের পরিচয় নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবে, নাকি ভয় ও বৈষম্যের মধ্যে জীবন কাটাবে?

লেখক

রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *